Saturday, December 8, 2012

গুগল বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যক্রম শুরু

বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ জন্য গুগলের বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন গ্রামীণফোনের সাবেক প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির। গতকাল সোমবার তিনি বাংলাদেশের ‘কান্ট্রি কনসালট্যান্ট’ পদে গুগলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
গুগলের বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরু হলেও ঢাকায় অফিস স্থাপন করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান মনিরুল কবির। আপাতত গুগলের সিঙ্গাপুর অফিস থেকেই বাংলাদেশের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গুগলের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জন্য মনিরুল কবির বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের আর্থিক সম্ভাব্যতা, আইনগত বিভিন্ন বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তার প্রতিনিধিত্বে গুগল বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছে।
মনিরুল কবির গুগলে যোগদানের আগে ২০০৯ সাল থেকে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই ২০১০ সালে গ্রামীণফোন টেলিনর গ্রুপের পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া তিনি বাংলালিংক, রহিমআফরোজ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকোসহ দেশের শীর্ষপর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডিমিনিস্ট্রেশন থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করার পর বার্লিন স্কুল অব ক্রিয়েটিভ লিডারশিপে এমবিএ সম্পন্ন করেন তিনি।
গুগল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বের ৪৯টি দেশে গুগল তার কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব দেশে গুগল বিভিন্ন বাণিজ্যিকের পাশাপাশি নিজস্ব মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম (অ্যান্ড্রয়েড), স্মার্টফোন সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা সরাসরি দিয়ে থাকে। এর মধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকাসহ আশপাশের কয়েকটি দেশে গুগলের অফিস রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশেও সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে।
এটি মূলত কান্ট্রি কনসালট্যান্সি অফিস হিসেবে কাজ করবে। এ অফিস আর্থিক ও আইনগত বিভিন্ন বিষয়ে গুগলের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করবে। এরপর আর্থিক দিক লাভজনক প্রমাণিত হলেই গুগল বাংলাদেশে অফিস স্থাপন করে সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আর্থিক দিক থেকে টেকসই প্রমাণিত না হওয়ায় পাকিস্তানে গুগল চার বছরেরও বেশি কনসালট্যান্সি লেভেলে কার্যক্রমের মধ্যেই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাত ‘আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনাময়’ মনে করছে গুগল। বিশেষ করে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দেখে মুগ্ধ গুগল। ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি হলেও কনটেন্ট খুবই কম। এ কারণেই এ বাজারটি খুব সম্ভাবনাময় মনে করে তারা। বিশেষ করে কনটেন্ট বৃদ্ধি পেলে ইন্টারনেটের ব্যবহারও দ্রুতগতিতে বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করে গুগল। ফলে দ্রুতই বাংলাদেশের অফিস স্থাপন সম্ভব হবে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
(সুত্রঃ কমপিউটার জগৎ)
http://www.comjagat.com/


Friday, December 7, 2012

তোমরা যারা শিবির করো (মুহম্মদ জাফর ইকবাল)

বেশ কিছুদিন আগের কথা। আমি আমার অফিসে যাচ্ছি, তখন বারান্দায় আমার দুজন ছাত্রের সঙ্গে দেখা হলো, তারা আমাকে কিছু বলল না কিন্তু তাদের দেখে আমার মনে হলো, তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা কি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাও?’ তারা মাথা নাড়ল, একজন কুণ্ঠিতভাবে আমার হাতে দুটি বই তুলে দিয়ে বলল, ‘স্যার, আপনাকে এই বই দুটি দিতে এসেছি।’ আমি বই দুটি নিলাম। বিজ্ঞানের ওপর চমৎকার দুটি বই, হাতে নিয়ে বললাম, ‘থ্যাংকু। সুন্দর পাবলিকেশন্স।’ তারপর বই দুটি খুললাম, ভেতরে লেখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
মুহূর্তে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেল। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ হয়ে এই দেশে যে ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, সে জন্য আমি তাদের কখনো ক্ষমা করিনি। আমি জেনেশুনে কখনো কোনো জামায়াতে ইসলামীর নেতার সঙ্গে হাত মেলাইনি। আমার যে আপনজনেরা মুক্তিযুদ্ধে মারা গিয়েছে, তাদের সম্মান দেখানোর জন্য এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমেরিকান এম্বাসির এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যখন আবিষ্কার করেছি, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরও ডাকা হয়েছে, আমি সেখান থেকে উঠে চলে এসেছিলাম। আমি আমার এই বিশ্বাসের কথা কখনো গোপন রাখিনি। কাজেই এই দুজন ছাত্র সেটা জানে না, তা হতে পারে না।
আমি ছাত্রদের বই দুটি ফেরত দিয়ে অত্যন্ত কঠিন গলায় বললাম, ‘জামায়াতে ইসলামীকে আমি কোন চোখে দেখি, তোমরা জানো না? তোমরা সেই দলের মানুষ হয়ে তোমাদের সংগঠনের বই আমাকে উপহার দিতে এসেছ? তোমরা আমাকে চেনো না?’
ছাত্র দুটির চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে নিজামী আর মুজাহিদ কী করেছে, তাদের মনে করিয়ে দিলাম। গোলাম আযম যুদ্ধের সময় কী করেছে এবং বাংলাদেশের জন্মের পরও কীভাবে তারা বিরোধিতা করেছে, সেই কথা বললাম। আমার মতো শিক্ষকেরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের তৈরি বদর বাহিনীর হাতে কীভাবে মারা গিয়েছে, সেই ঘটনাগুলো বলে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, কম বয়সী তরুণ হওয়ার পরও তারা কেমন করে যুদ্ধাপরাধীদের একটা সংগঠনের সদস্য হতে পারল?
একজন ছাত্র দুর্বল গলায় বলল, ‘স্যার, আমরা তো জামায়াতে ইসলামী করি না। আমরা ছাত্রশিবির করি।’
অনেক দিন আগের কথা, জামায়াতে ইসলামী আর ছাত্রশিবিরের মধ্যে পার্থক্যটুকু নিয়ে আমি তাদের কী বলেছিলাম, আমার এখন মনে নেই। শুধু মনে আছে, ছাত্র দুটি মাথা নিচু করে আমার কাছ থেকে ফিরে গিয়েছিল।
নানা কারণে এই ঘটনার কথা আমি ভুলতে পারি না। আমি ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য লেখালেখি করি। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একটি নতুন বাংলাদেশের সন্তান এবং তারা বড় হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দেবে। আমি যখন সেই কথাটা তাদের বলি, আমার ধারণা, তারা আমার কথা বিশ্বাস করে। তাই তাদের অনেকেই আমার কাছে উৎসাহের কথা, অনুপ্রেরণা কিংবা স্বপ্নের কথা শুনতে আসে। শিবিরের এই দুটি ছেলে নিশ্চয়ই ভেবেছিল, তাদের এই চমৎকার বই দুটি আমাকে মুগ্ধ করবে, আমি উৎসাহসূচক কিছু বলব। অন্য দশজন তরুণের মতো তারাও এক ধরনের দাবি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি তাদের আশা পূরণ করতে পারিনি। আমার ভয়ংকর রকমের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে তারা নিশ্চয়ই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল—কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না।
আমি তাদের কথাগুলোও ভুলতে পারি না। তারা আমাকে বলেছিল যে তারা জামায়াতে ইসলামী করে না, তারা শিবির করে। তাহলে তারা কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে তারা জামায়াতে ইসলামী থেকে ভিন্ন? ১৯৭১ সালে এই দেশে জামায়াতে ইসলামী যে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড করেছে, যে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, যে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড করেছে, সেগুলো তাদের কোনোভাবে স্পর্শ করে না?
এই দুজন ছাত্র ছাড়া আর কখনোই কোনো জামায়াত বা শিবিরকর্মী আমার কাছে কথা বলতে আসেনি, তাই আমি কোনো দিন হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাব না।

২.
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে, এই দীর্ঘ জীবনে আমি সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় কী দেখেছি। আমি এতটুকু দ্বিধা না করে বলব, সেটি হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তার কারণ, যে বয়সটি হচ্ছে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার বয়স, সেই বয়সে তারা ভালোবাসে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের, যারা এই মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। যে বয়সে একজন তরুণের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনুপ্রাণিত হয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের দিয়ে। যে বয়সে তাদের স্বপ্ন দেখার কথা দেশের বড় বড় লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, সাংবাদিককে নিয়ে, সেই বয়সে তারা আনুগত্য মেনে নিয়েছে সেই সব মানুষের, যারা আলবদর বাহিনী তৈরি করে একাত্তরে এই দেশের লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী আর সাংবাদিকদের হত্যা করেছে! যে বয়সে তাদের একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করার কথা, ষোলোই ডিসেম্বরে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার কথা, পয়লা বৈশাখে রাজপথে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা যে শুধু এই অবিশ্বাস্য আনন্দ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে রাখে তা নয়, তারা এগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। যে বয়সে তাদের মুক্তচিন্তা শেখার কথা, গান গাওয়ার কথা, নাটক করার কথা, আদর্শ নিয়ে ভাবালুতায় ডুবে যাওয়ার কথা, সেই সময় তারা ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতে শেখে, সাম্প্রদায়িক হতে শেখে, ধর্মান্ধ হতে শেখে। যে বয়সে ছেলে আর মেয়ের ভেতর সহজ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শেখে—সে জন্য তারা কত দূর যেতে পারে, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি, সেই ভয়ংকর কাহিনি আমি কখনো কাউকে বলতেও পারব না!
যখন এই বাংলাদেশের সব মানুষ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে এই সংগঠনের হতভাগ্য তরুণদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য। খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই, এখনো দেশের আনাচকানাচ থেকে তাদের ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। আমার খুব জানার ইচ্ছে করে যে নেতারা তাদের বুঝিয়েছে, রাস্তায় নেমে চোরাগোপ্তা হামলা করে পুলিশের গাড়ি পোড়াতে হবে, নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে হবে। সেই সব নেতা কি তাদের সন্তানদেরও পথে নামিয়েছে? আমি মোটামুটি নিশ্চিত, সেটি ঘটেনি। আমি আগেও দেখেছি, এই নেতারা যখন তাদের কর্মী বাহিনীকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়, তখন তাদের সন্তানেরা ইংরেজি মিডিয়াম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।
আমি অনেক চিন্তা করেছি, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারিনি, কেমন করে বাংলাদেশের মতো রক্তস্নাত একটি দেশে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা নৃশংস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেখানে একজন মানুষ মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো না বেসে তাদের হত্যাকারীদের ভালোবাসতে পারে! আমার মনে আছে, আমি বহুকাল পরে যখন প্রথম এই দেশে ফিরে এসেছিলাম, তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা মিছিল দেখে একধরনের অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন লক্ষ করেছিলাম, একজন ছাত্র তার হাতের ফাইল দিয়ে নিজের মুখটি ঢেকে রেখেছে, যেন আমি তার মুখটা দেখতে না পারি। আমার সামনে এই পরিচয় দিতে তার লজ্জা কিন্তু এই মিছিল থেকে তার বের হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই—এর চেয়ে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে?
একজন ছাত্র কেমন করে শিবির করে, তার একটি উত্তর অবশ্য আমি একবার খুঁজে পেয়েছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র একবার আমাকে একটি এসএমএস করে জানিয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, খুব ভালো ছাত্র এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার খুব ইচ্ছে। তার বিভাগীয় প্রধান জামায়াতে ইসলামীর লোক এবং তাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সে যদি শিবির না করে, তাহলে তাকে শিক্ষক হতে দেওয়া হবে না। সে জন্য সে শিবিরে যোগ দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তার কোনো অহংকার নেই। সেই এসএমএসটিতে আমি একজন মেরুদণ্ডহীন অসহায় হতভাগা মানুষকে আবিষ্কার করেছিলাম। তার জন্য কোনো মমতা নয়, আমি করুণা অনুভব করেছিলাম। আমি ইচ্ছে করলেই সেই ছাত্রটিকে খুঁজে বের করতে পারতাম, তার নীতিহীন বিভাগীয় প্রধানের পরিচয় জানতে পারতাম কিন্তু আমি তার কিছুই করিনি—আমার রুচি হয়নি।
আমার মাঝেমধ্যে জানার ইচ্ছে করে, এ ধরনের কারণে কতজন তরুণ শিবিরে যোগ দিয়েছে—কোনো স্বপ্ন নয়, কোনো আদর্শ নয়, শুধু স্বার্থ, শুধু চাওয়া-পাওয়া। মাঝেমধ্যেই পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই, জামায়াতে ইসলামীর নাকি অনেক অর্থবিত্ত, তাদের অনেক ধরনের ব্যবসা। এই দলে যোগ দিলে নাকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হল দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই হলে সিট পাওয়া যায়। তারা কলেজ দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই কলেজে ভর্তি হওয়া যায়। পত্রপত্রিকায় দেখি, পরিচিতদের কাছে শুনি, তাদের দল নাকি অত্যন্ত সংগঠিত। আদর্শ ছাড়া কিংবা ভুল আদর্শের সংগঠন কি খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারে? দীর্ঘদিন মিলিটারির শাসনে থাকার কারণে মানুষ যখন বিভ্রান্ত ছিল, তখন এই দেশে জামায়াতে ইসলামীরা ইলেকশনে ৩০টার মতো সিট পেয়েছিল। (কী লজ্জা!) যখন দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে, একটু বুঝতে শুরু করেছে তখন তাদের সিটের সংখ্যা এক-দুইয়ে নেমে এসেছিল। উপায় না দেখে তখন তারা বিএনপির ঘাড়ে চড়ে বসেছে, আবার তারা গোটা ত্রিশেক সিট পেয়েছে, মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ যখন আবার সজাগ হয়েছে, তখন সিটের সংখ্যা আবার এক-দুইয়ে নেমে এসেছে। এখন তারা কার ঘাড়ে উঠবে। এই দেশে যদি নির্বাচন করেই শুধু ক্ষমতায় যাওয়া যায়, তাহলে তাদের জন্য কোন পথটুকু খোলা আছে। আমার খুব আশা ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের মানুষের এত আগ্রহ, এত উত্তেজনা দেখে বিএনপি হয়তো যুদ্ধাপরাধীদের এই দলটিকে পরিত্যাগ করবে—তারা করেনি। আমি খুব আশাহত হয়েছি কিন্তু তাদের ছাত্রসংগঠন আমাকে আশাহত করেনি। তারা শিবিরের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি।
আমি রাজনীতি ভালো বুঝি না, আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কারও গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি একটা বিষয় খুব ভালো করে জানি, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে আর কেউ কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। পঁচাত্তর থেকে নব্বইয়ের সেই কালো সময় আমরা পার হয়ে এসেছি, আর কেউ কখনো এই দেশের মানুষকে সেই অন্ধকার জগতে ঠেলে পাঠাতে পারবে না। কাজেই যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে কেউ সুবিধে করতে পারবে না, বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বিচার করে এই গ্লানিময় অধ্যায়কে চিরদিনের মতো সমাপ্ত করে দিতে হবে।

৩.
আমার এই লেখাটি তোমরা যারা শিবির করো, তাদের জন্য। আমি জানি, এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজ—আমার এই লেখাটি তোমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না এবং তোমরা যারা পড়ছ তারা আমার এই লেখায় বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে এর মধ্যে নানা ধরনের যুক্তি দাঁড় করিয়েছ। শুধু তা-ই নয়, তোমাদের প্রিয় জায়গা—ইন্টারনেটে সম্ভবত এই লেখার বিরুদ্ধে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে। কিন্তু তবু আমার মনে হয়েছে, আমার এই কাজটুকু করা উচিত, তোমাদের কখনো যে সত্য কথাগুলো বলা হয়নি, আমার সেটা বলা উচিত।
তোমাদের কাছে আমার প্রথম যে প্রশ্ন সেটি হচ্ছে, তোমরা কি জানো আবুল আলা মওদুদী নামে যে মানুষটির চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনৈতিক দলটি গড়ে উঠেছে, সেই মানুষটিকে মানুষ হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল (যদিও সেটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি)। তোমরা কি জানো জামায়াতে ইসলামী ইসলাম প্রচারের দল নয়, এটি রাজনৈতিক দল এবং এটি সব সময় ভুল রাজনীতি করে এসেছে? এই উপমহাদেশে যখন ব্রিটিশদের বিদেয় করে পাকিস্তান সৃষ্টি করার আন্দোলন হয়েছে, তখন তারা সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। আবার যখন এই দেশে পাকিস্তান নামের দানবকে পরাস্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে? এখন যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ করে থাকা দেশদ্রোহীদের বিচার করা হচ্ছে, তখন আবার জামায়াতে ইসলামী সেই সত্যকে অস্বীকার করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে—সেটি ঘটেছে তোমাদের চোখের সামনে এবং তোমরা খুব ভালো করে জানো, সেখানে তোমাদের হূদয়হীনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আমার ধারণা, তোমরা যারা শিবির করো, তারা সম্ভবত কখনোই খোলা মন নিয়ে এই দেশের ইতিহাস সম্পর্কে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলো না। তোমরা সব সময়ই নিজেদের সঙ্গে নিজেরা কথা বলো, একে অন্যকে উৎসাহ দাও, একে অন্যের ওপর নির্ভর করো কিন্তু তোমাদের দলের বাইরের মানুষেরা তোমাদের সম্পর্কে কী ভাবে, কখনোই তার খোঁজ নাওনি। যদি খোঁজ নিতে, তাহলে হয়তো তোমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ছবি দেখতে পেতে। তোমরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করতে, তোমাদের যেভাবে যা কিছু শেখানো হয়েছে, তার সবকিছু সত্যি নয়। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই দেশের অজস্র সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে তোমাদের দলের দু-একটি পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়া অন্য কোথাও তোমাদের সম্পর্কে একটিও ভালো কথা ছাপা হয় না। কিছুদিন থেকে গাড়ি ভাঙচুর বা পুলিশকে আক্রমণ করার যে নতুন কর্মকাণ্ড শুরু করেছ, সেটি করে তোমরা যে নিজেরাই বিপদগ্রস্ত হতে শুরু করেছ, সেটা কি লক্ষ করেছ? আজ রাতেই আমি খবরে জানতে পারলাম, সাধারণ মানুষ তোমাদের ধাওয়া করছে, তোমাদের আক্রমণ করছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এটি ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকবে। তোমরা নিজেদের জন্য যে জীবন বেছে নিয়েছ, তার মধ্যে কি বিন্দুমাত্র মর্যাদা আছে? আত্মতুষ্টি আছে?
আজ থেকে কয়েক যুগ আগেও এই পৃথিবী যে রকম ছিল, এখন সেই পৃথিবী নেই। এই পৃথিবী অনেক পাল্টে গেছে। নতুন পৃথিবী তালেবান বা লস্কর-ই-তাইয়েবার পৃথিবী নয়। জামায়াতে ইসলামী বা শিবসেনার পৃথিবীও নয়। নতুন পৃথিবী হচ্ছে মুক্তচিন্তার পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক একটা পৃথিবী। এই নতুন পৃথিবীর মানুষেরা অসাধারণ, তারা একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছে, একে অন্যের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে শিখেছে, একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দিতে শিখেছে। এই নতুন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কোনো বিভাজন নেই। দেশ-জাতির সীমারেখা পর্যন্ত ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে।
তাই এই নতুন পৃথিবীতে যখন কেউ ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভাজন করে রাজনীতি করতে চায়, পৃথিবীর মানুষ তখন তাকে পরিত্যাগ করে। জামায়াতে ইসলামীর মতো বা শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দল তাই হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দল—নতুন পৃথিবীতে এই দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
আমি জানি, যদিও আমি এই লেখাটি লিখেছি যারা শিবির করে তাদের উদ্দেশে কিন্তু তারা আসলে আমার একটি কথাও বিশ্বাস করবে না। যদি বিশ্বাস করেও ফেলে, তার পরও তাদের কিছু করার থাকবে না। এ ধরনের রাজনৈতিক দল যখন তৈরি করা হয়, তখন অনেক লোভ দেখিয়ে দলে টানা হয়। কিন্তু দলে যোগ দিয়ে যদি মোহভঙ্গও হয়, তবু তারা আর দল থেকে বের হতে পারে না। অভিশপ্ত প্রেতাত্মার মতো এক অন্যকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে হয়।
যারা এখনো শিবিরে যোগ দেয়নি, তারা হয়তো এই লেখাটি পড়ে একটুখানি ভাববে। যখন তাকে এই দলে যোগ দেওয়ার কথা বলবে, হয়তো তারা একটিবার চিন্তা করবে, আমাদের এই ভালোবাসার দেশটিকে যারা টুঁটি চেপে হত্যা করতে চেয়েছিল, আমি কেন সেই দলে যোগ দেব? দেশকে যখন ভালোবাসার কথা, তখন কেন আমি দেশের সঙ্গে বেইমানি করব?
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার তীব্র আনন্দ যারা উপভোগ করেনি, যারা ভবিষ্যতেও কোনো দিন অনুভব করতে পারবে না, আমি সেসব হতভাগ্য মানুষের জন্য গভীর করুণা অনুভব করি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
(লেখাটি প্রথম আলো থেকে নেয়া)


Friday, November 23, 2012

ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ সরকারের (Beware of Facebook! )


ফেসবুক ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় ফেসুবক ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিপদগ্রস্ত করার লক্ষ্যে ইচ্ছা করলে অন্য কেউ যেকোনো আপত্তিকর ছবি বা মন্তব্যে তাঁকে যুক্ত করতে পারে। এ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের রামুতে ফেসবুকের একটি ছবি ট্যাগ করাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ফেসবুকে প্রায়ই আপত্তিকর অনেক পোস্টে অনেককে ট্যাগ করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রত্যেককে তাদের নিজ অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা গোপনীয়তা এমনভাবে করার সুপারিশ করেছেন, যাতে খুব সহজে যে কেউ ট্যাগ করতে না পারে।

The government on Thursday cautioned Facebook users against anybody tagging them to offensive photographs or comments.

"People are being advised to remain aware and cautious about the matter," it said in a statement.

The warning came about two months after houses and places of worship of the minority Buddhists were burned down in Chittagong and Cox's Bazaar allegedly after the photo of a burned Quran was tagged to a Buddhist youth's Facebook profile to incite hate attacks.

Media investigations later found that the Buddhist youth was not tagged in any Facebook profile, rather zealots doctored a Facebook page to trigger the riot.

According to Bangladesh Telecommunications Regulatory Commission's anti-cyber crime cell, over a thousand complaints, most of which centre around the popular social networking site Facebook, were lodged by female students in the last nine months since the cell became operative.

One of BTRC's cybercrime specialists told bdnews24.com that most of the complaints were about fake Facebook profiles. Many complained that their identities or pictures were being used to open fake accounts.

Several people were arrested for making negative comments about Prime Minister Sheikh Hasina on Facebook on different occasions. A university teacher was also jailed for making a comment against her in his Facebook status.

Five Facebook pages were blocked following High Court orders in May this year for hurting religious sentiments.

A fifth of a million are using Facebook in Bangladesh currently as the number crosses the mark of one billion worldwide.
(সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং বিডি নিউজ ২৪)


Tuesday, November 6, 2012

Rupkotha (Lyric) Arfin Rumey & Kheya


শিরোনামঃ রূপকথা.
কন্ঠঃ আরফিন রুমি এবং কেয়া.
অ্যালবামঃ রূপকথা.

*******************
ওহ  নতুন সূর্যের ঘর যদি যায় থেমে যায়
বিষণ্ণ সূর্য আঁধারে হারায় !

শকুনের উল্লাসে আকাশ ডেকে যায় লজ্ঝায়
স্বপ্নের পাখিরা ডানা ঝাঁপটায় নীল ঝন্ত্রনায়

ঝড় নামে কালো অমাবস্যায়
স্বপ্ন গুলো সব...... দূরে উড়ে যায় .........

রূপকথার গল্পের মত তবু বসে থাকে সে ...
বসে থাকে আকাশ দেখার অপেক্ষায় !.........

সব গান যদি হারিয়ে ফেলে সুর
ছন্ধ হারায় !...
আকাশ যদি অকারন মেঘে এ ডেকে যায়..
ঝড় নামে কালো অমাবস্যায় !!
স্বপ্ন গুলো সব দূরে উড়ে যায় .....

রূপকথার গল্পের মত তবু বসে থাকে সে ...
বসে থাকে আকাশ দেখার অপেক্ষায় !........


Monday, November 5, 2012

একজন দিনমজুর রঞ্জিত স্যার !


দিনটি ঠিক মনে নেই, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে হবে। খুব সকালে প্রথম আলোর প্রধান বার্তা সম্পাদকের ফোন, ফোন ধরতেই বললেন, আজকের ডেইলি স্টার দেখেছেন? বললাম, না, পত্রিকা এখনো আসেনি। বললেন, পত্রিকাটা দেখে ফোন দেবেন। অনেক সময় অপেক্ষার পর পত্রিকাটি যখন এল, দেখলাম ওই মাদ্রাসার এমপিওভুক্তি না হওয়ার কারণে শিক্ষকেরা দিনমজুরি করছেন এমন একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে।
পরে তিনি আমাকে বললেন, আপনি এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন প্রতিবেদন করার মতো কিছু পাওয়া যায় কি না।
একদিন সকাল সকাল ছুটলাম জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ওই মাদ্রাসায়। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরা জানালেন, কয়েকজন শিক্ষক খুবই গরিব। তাই তাঁরা মাঝেমধ্যে দিনমজুরিও করেন। কিন্তু রঞ্জিত কুমার রায় নামের একজন শিক্ষক তখনো মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। অনেক চেষ্টার পর মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা বললেন, উনি দুপুরের পর ক্লাস নেন। এখন কোথায় জানতে চাইলে বলেন, অনেক দূরে ভাটায় কাজ করেন। তাঁর কথামতো ছুটলাম সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে এবিএল (২) ইটভাটায়। গিয়ে দেখলাম, অন্য দিনমজুরদের মতো একজন শিক্ষকও ইটের বোঝা টানছেন। দৃশ্যটি দেখে চোখে পানি এসে গেল।
ফাল্গুনের ভরদুপুর, রোদটা বড্ড কড়া হয়ে উঠেছে। দরদর করে ঝরছে ঘাম। ইটের ভারী বোঝায় টন টন করছে ঘাড়টা। মাথায় গামছা পেঁচানো, গায়ে একটি ছেঁড়া ময়লা গেঞ্জি, পরনে ছেঁড়া ফুল প্যান্ট। সামনে গিয়ে তাঁর পথ রোধ করে জিজ্ঞেস করি, আপনি কি রঞ্জিত স্যার?
চমকে গেলেন। ইটের বোঝাটা আর কাঁধে রাখতে পারলেন না। সেখানেই রেখে লজ্জাবনত কণ্ঠে বললেন, কেন? আপনার পরিচয়? পরিচয় পেয়ে তিনি প্রথমে আন্দাজ করে নিয়েছিলেন হয়তো মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে কাজ করার অপরাধে সাংবাদিকের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।
আপনি কি বেড়াকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক? জবাব এল, হ্যাঁ, আমাদের মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি, তাই বেতন পাই না। প্রথম বেলাটা ভাটায় কাজ করি, দ্বিতীয় বেলায় ক্লাস নিই। আমার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আমি কাজ করছি। আমার কোনো জমিজমা নেই, মাদ্রাসায় বেতন পাই না, সংসার চলে একবেলা দিনমজুরির ১০০ টাকায়।
তাঁর পুরো নাম রঞ্জিত কুমার রায়, বয়স ৩৬ বছর। তাঁর বাড়ি দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার ডুবুলিয়া গ্রামে।
১৯৯৫ সালে দিনাজপুর কেবিএম কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন, ২০০০ সালে তাঁর বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের বেড়াকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসায় চাকরিতে যোগ দেন। এ জন্য মাদ্রাসার উন্নয়নে টাকা দিতে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১৫ শতাংশ জমি বিক্রি করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরেও মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কোনো বেতন পান না।
গৃহশিক্ষকের কাজ করেন না কেন? এলাকাটা খুবই দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা। কে টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়াবে। যাঁদের একটু সামর্থ্য আছে, তাঁরা ছেলেমেয়েদের শহরে পড়ান।
রঞ্জিত স্যারের এই ‘এক বেলা শিক্ষকতা, অন্য বেলা দিনমজুরি’ শিরোনামে ২০১১ সালের ৯ মার্চ প্রথম আলোয় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া পরে। অনেকেই রঞ্জিত স্যারকে সহযোগিতার হাত বাড়াল। পাঠকদের অনুরোধে রঞ্জিত স্যারের একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হলো। কেউ ব্যাংক হিসাবে, কেউ কুড়িয়ার সার্ভিসে, আবার কেউ বা নিজে এসে রঞ্জিত স্যারকে সহযোগিতা করলেন।
অনেকে রঞ্জিত স্যারের একটি থাকার ঘর ও মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের জন্য প্রথম আলো কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাতে থাকেন।
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান পাঠকদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তহবিল গঠন করলেন, ওই তহবিলে জমা তিন লাখ ৫০ হাজার, এর সঙ্গে প্রথম আলো ট্রাস্ট তহবিল থেকে প্রায় এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা দিয়ে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকায় করা হলো শিক্ষকের পরিবারের জন্য একটি আধাপাকা টিনের ঘর, ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল এবং মাদ্রাসার জন্য একটি ক্লাসরুম, ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল।
স্থানীয় সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর আশ্বস্ত করলেন নীলফামারী জেলায় যদি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়, সেটি হবে রঞ্জিত স্যারের বেড়াকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ওই সময় থেকে অদ্যাবধি নীলফামারী জেলায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি।
কেমন আছেন রঞ্জিত স্যার—জানতে সম্প্রতি (শুক্রবার সকালে) গিয়েছিলাম ডুবুলিয়া গ্রামে। রঞ্জিত স্যার তখন প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে করে দেওয়া তাঁর ঘরের বারান্দায় মেয়ে শিশুশ্রেণীর ছাত্রী ভূমিকা রানী রায় ও ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রিপন রায়কে পড়া দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। স্ত্রী সৈব্যা রায় তাঁদের পাশে অন্যমনস্ক হয়ে বসেছিলেন।
এ সময় কথা বললে রঞ্জিত বলেন, ‘বাচ্চাদের একটু পড়া দেখিয়ে দিচ্ছিলাম। এখনই দোকান খুলতে যেতে হবে। কারণ আজ শুক্রবার মাদ্রাসা বন্ধ আছে।’
প্রথম আলোয় তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের পাঠকদের সহযোগিতায় তিনি ওই গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশে ক্যানেলের বাজারে একটি ওষুধের দোকান খুলেছেন। এখন একবেলা ভাটায় দিনমজুরির বদলে একবেলা ওষুধের দোকান চালান। এখান থেকে প্রতিদিন ৫০-১০০ টাকা আয় হয়। এখন কেমন আছেন? জবাব আসে ভগবানের কৃপায় আপনাদের আশীর্বাদে ভালো। দোকান কেমন চলছে? খুব ভালো না। কোনো রকম দিন যাচ্ছে।
কথা বলে জানা গেল, তিনি যে সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছিলেন সেখান থেকে কিছু ঋণমহাজন পরিশোধ করেছেন, আর এক লাখ টাকা দিয়ে একটি দোকানঘর করে সেখানে কিছু ওষুধ রেখে কেনাবেচা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবন যখন মৃতপ্রায়, তখন প্রথম আলো আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে গোটা বিশ্বে আমার পরিচয় ঘটিয়ে দিয়েছে। ক্ষুদ্র এই মানুষটাকে বৃহৎ মানুষদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। প্রথম আলোর সম্পাদকের মতো একজন এত বড় মানুষ আমার বাড়িতে এসেছে, এরপর আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কী থাকতে পারে। প্রথম আলো পরিবারের সবার জন্য আমাদের শুভকামনা।’
---------------------------------------------------------------------------
(লেখাটি প্রথম আলো পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)


Ek Jibon -2 Lyric (Bangla)


এক জীবন ২ বাংলা লিরিক্স,
লিরিক্স টি বাংলায় লিখেছেন (বদরুল ইসলাম মিয়া)
-------------------------------------- 
এই গান টি শুনতে এখানে ক্লিক করুন
***************************
জীবন এত সুখের হল আমার পাশে তুমি আছো তাই,
এক জীবনে এর চেয়ে বেশী আমার যে আর চাওয়ার কিছু নাই.

তুমার আমার ভালবাসা শেষ হওয়ার নয়
শুধু তোমায় কাছে চায় এই হৃদয়

অগো তোমায় নিয়ে আমি পাড়ি দিয়ে
যেতে চাই সুখের ই দেশে হারিয়ে …।(২)

দিন গেল মাস গেল গেল বহু বৎসর
তবু জেন শেষ হয়না ভালবাসার প্রহর...। (২)

তুমি আমার ঘরে আসো পূর্ণিমা হয়ে
এই জীবন সাজিয়েছ তুমি পূর্ণতা দিয়ে।

অগো তোমায় নিয়ে আমি পাড়ি দিয়ে
যেতে চাই সুখের ই দেশে হারিয়ে…। (২)

তুমি আমি ভালবেসে থাকব জীবন বর
মরন যেন আমাদের করে না তো পর... (২)

তুমায় নিয়ে সারাজীবন কাটাতেই চাই
তুমি ছাড়া এই আমার আপন কেহ নাই ।

অগো তোমায় নিয়ে আমি পাড়ি দিয়ে
যেতে চাই সুখের ই দেশে হারি। (২)


Monday, September 10, 2012

Maher Zain - Forgive Me 2012 (Mp3 Full Album)

Album : Forgive Me
Artist : Maher Zain
Total Tracks :17
Quality : OST [Stereo]
Bitrate : 128 Kbps
Ripper : B Islam
***********************************************

The track list for "Forgive Me Album"
01 Assalamu Alayka
02 Assalamu Alayka - Arabic Version
03 Forgive Me
04 Freedom
05 Guide Me All The Way
06 I Love You So
07 Masha Allah
08 Mawlaya
09 Mawlaya - Arabic Version
10 Muhammad (pbuh)
11 My Little Girl
12 Number One For Me
13 One Big Family
14 Paradise
15 Radhitu Billahi Rabba
16 Radhitu Billahi Rabba - Arabic Version
17 So Soon


**********************************************
Download Link 
Click here to Listen and single tracks